যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে প্রত্যাশার তুলনায় নিয়োগ বেড়েছে। মে মাসের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুসারে, উচ্চ সুদহার ও অর্থনীতিতে নীতিগত অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও দেশটির শ্রমবাজার বেশ স্থিতিশীল ছিল। খবর এপি।
মার্কিন শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ৭৮ লাখ শূন্যপদের ঘোষণা দেন নিয়োগদাতারা, যা আগের মাস অর্থাৎ এপ্রিলের তুলনায় চার লাখ বেশি। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে সর্বশেষ ৮০ লাখ চাকরির সুযোগ দেখা গিয়েছিল।
অর্থনীতিবিদরা ধারণা করেছিলেন, মে মাসে শূন্যপদের সংখ্যা কমে ৭৩ লাখ হবে। কিন্তু বাস্তবে তা বেড়েছে। এ সময় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এগিয়ে ছিল হোটেল-রেস্তোরাঁ ও আর্থিক খাত।
অবশ্য ফেডারেল সরকারে চাকরির সংখ্যা কমেছে। এটি ২০২০ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়োগ স্থগিত নীতির কারণে এমনটা ঘটেছে।
শ্রম বিভাগের জব ওপেনিংস অ্যান্ড লেবার টার্নওভার সার্ভে (জিওএলটিএস) অনুযায়ী, মে মাসে চাকরি ছাড়ার হার সামান্য বেড়েছে। অন্যদিকে ছাঁটাইয়ের সংখ্যা কমেছে। তবে একই সঙ্গে নিয়োগ কমেছে। অর্থাৎ কোম্পানিগুলো কর্মী ধরে রাখতে চাইলেও নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকছে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ন্যান্সি ভ্যানডেন হাউটেন বলেন, ‘নিয়োগ কম হলেও সেটি তত উদ্বেগের বিষয় নয়, কারণ ছাঁটাইয়ের হারও খুবই কম।’
তবে ২০২২ সালের মার্চে রেকর্ড ১ কোটি ২১ লাখ চাকরির সুযোগের তুলনায় গত মাসের নিয়োগ অনেক কম।
২০২১-২৩ সালের নিয়োগ প্রবাহের তুলনায় মার্কিন শ্রমবাজার এখন অনেকটাই ম্লান। তখন মহামারী-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সময় ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান হয়েছিল। এতে দেশজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। ফলে ফেডারেল রিজার্ভ ২০২২-২৩ সালে সুদহার ১১ বার বাড়াতে বাধ্য হয়।
উচ্চ সুদহার ধীরে ধীরে শ্রমবাজার শিথিল করেছে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমদানির ওপর উচ্চ করনীতি নিয়োগ পরিস্থিতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।